মোঃ মকবুলার রহমান
ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের চিত্র। যে চরগুলো কিছুদিন আগেও ছিল অথৈ পানির নিচে, আজ সেখানে সবুজ ফসলের সমারোহ। পানি সরে যেতেই নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। কৃষকের নিরলস পরিশ্রমে বদলে গেছে হতাশা ও অনিশ্চয়তার ছবি, আর সম্ভাবনার আলোয় ভরে উঠেছে পুরো অঞ্চল।
তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে এখন সারি সারি সবুজ ক্ষেত—ভুট্টা, আলু, গম, মরিচ, বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা ও বিভিন্ন শাকসবজিতে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে শুধু পানি আর কাদার রাজত্ব ছিল, সেখানে এখন কৃষকের ব্যস্ত পদচারণা, সেচযন্ত্রের শব্দ আর ফসলি জমির প্রাণচাঞ্চল্য।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করেন। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বীজ বপন করেছিলেন, আর এখন সেই ঝুঁকিই পরিণত হচ্ছে আশার আলোতে। সবুজ ফসল দেখে কৃষকদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি আর আত্মবিশ্বাস।
চরাঞ্চলের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“প্রতিবছর পানি আসে, সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু পানি নামার পর আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াই। এবার ফলন খুব ভালো হবে বলে আশা করছি। আলু, ভুট্টা আর সবজির অবস্থা খুব ভালো।”
অন্য এক কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান,
“আগে মনে হতো চর মানেই কষ্ট আর অনিশ্চয়তা। এখন মনে হচ্ছে এই চরই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। পরিশ্রম করলে চরও সোনা ফলায়।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক আকারে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,
“চরাঞ্চলের মাটিতে উর্বরতা বেশি। সঠিক সময়ে পানি সরে যাওয়ায় এবার কৃষকেরা পরিকল্পিতভাবে চাষ করতে পেরেছেন। ফলন ভালো হলে এটি শুধু কৃষকদের জীবনমান বদলাবে না, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে।”
তিস্তার চরাঞ্চল যেন এখন শুধুই একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়—এটি হয়ে উঠেছে সংগ্রাম, সাহস আর সম্ভাবনার প্রতীক। পানির নিচে ডুবে থাকা চর যখন আবার মাথা তোলে, তখন তা শুধু জমি নয়, মানুষের জীবনের স্বপ্নকেও জাগিয়ে তোলে। আর সেই স্বপ্নের রঙ এখন সবুজ—ফসলের সবুজ, আশার সবুজ, সম্ভাবনার সবুজ।
তিস্তার চরাঞ্চল আজ তাই হতাশার নয়, বরং সম্ভাবনার নতুন নাম।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
মোঃ মকবুলার রহমান
ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের চিত্র। যে চরগুলো কিছুদিন আগেও ছিল অথৈ পানির নিচে, আজ সেখানে সবুজ ফসলের সমারোহ। পানি সরে যেতেই নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছে তিস্তার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। কৃষকের নিরলস পরিশ্রমে বদলে গেছে হতাশা ও অনিশ্চয়তার ছবি, আর সম্ভাবনার আলোয় ভরে উঠেছে পুরো অঞ্চল।
তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে এখন সারি সারি সবুজ ক্ষেত—ভুট্টা, আলু, গম, মরিচ, বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা ও বিভিন্ন শাকসবজিতে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে শুধু পানি আর কাদার রাজত্ব ছিল, সেখানে এখন কৃষকের ব্যস্ত পদচারণা, সেচযন্ত্রের শব্দ আর ফসলি জমির প্রাণচাঞ্চল্য।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করেন। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বীজ বপন করেছিলেন, আর এখন সেই ঝুঁকিই পরিণত হচ্ছে আশার আলোতে। সবুজ ফসল দেখে কৃষকদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি আর আত্মবিশ্বাস।
চরাঞ্চলের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“প্রতিবছর পানি আসে, সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু পানি নামার পর আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াই। এবার ফলন খুব ভালো হবে বলে আশা করছি। আলু, ভুট্টা আর সবজির অবস্থা খুব ভালো।”
অন্য এক কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান,
“আগে মনে হতো চর মানেই কষ্ট আর অনিশ্চয়তা। এখন মনে হচ্ছে এই চরই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। পরিশ্রম করলে চরও সোনা ফলায়।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক আকারে আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,
“চরাঞ্চলের মাটিতে উর্বরতা বেশি। সঠিক সময়ে পানি সরে যাওয়ায় এবার কৃষকেরা পরিকল্পিতভাবে চাষ করতে পেরেছেন। ফলন ভালো হলে এটি শুধু কৃষকদের জীবনমান বদলাবে না, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে।”
তিস্তার চরাঞ্চল যেন এখন শুধুই একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়—এটি হয়ে উঠেছে সংগ্রাম, সাহস আর সম্ভাবনার প্রতীক। পানির নিচে ডুবে থাকা চর যখন আবার মাথা তোলে, তখন তা শুধু জমি নয়, মানুষের জীবনের স্বপ্নকেও জাগিয়ে তোলে। আর সেই স্বপ্নের রঙ এখন সবুজ—ফসলের সবুজ, আশার সবুজ, সম্ভাবনার সবুজ।
তিস্তার চরাঞ্চল আজ তাই হতাশার নয়, বরং সম্ভাবনার নতুন নাম।

আপনার মতামত লিখুন